প্রধান নির্বাহীর পরিবারের নিয়ন্ত্রণে পুরো ডেল্টা লাইফ

সময়: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০ ২:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ


অনুপ সর্বজ্ঞ : পুঁজিবাজার ও বীমা খাতের সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানির জীবন বীমা তহবিল ৩ হাজার কোটি টাকারো বেশি। এর ৯০ শতাংশের মালিক বীমা গ্রাহক ও ১০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীগণ। তবে বৃহৎ এ প্রতিষ্ঠানটির পুরোটাই রয়েছে এর প্রধান নির্বাাহী কর্মকর্তা আদিবা রহমানের পরিবারের নিয়ন্ত্রণে।

বীমা কোম্পানির মূলধন ও শেয়ারধারণ বিধিমালা অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি বা তার পরিবারের সদস্যগণ একক বা যৌথভাবে বীমা কোম্পানির ১০ ভাগের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবেন না। অথচ ডেল্টা লাইফের ৮ জন পরিচালকের মধ্যে ৪ জন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদিবা রহমানের পরিবারের। বাকি ৪ জনের মধ্যে ২ জন প্রতিনিধি পরিচালক ও ২ জন্য স্বাধীন পরিচালক।

কোম্পানির অন্যতম পরিচালক সুরাইয়া রহমান ডেল্টা লাইফেরই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অদিবা রহমানের মা। পরিচালক জায়েদ রহমান প্রধান নির্বাহীর ভাই। এছাড়া অপর দু’ পরিচালক সাইকা রহমান ও আনিকা রহমান কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বোন। কোম্পানি চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. নুর উদ্দীন খান, যিনি একই সঙ্গে এ কোম্পানির স্বাধীন পরিচালক। অন্য একজন স্বাধীন পরিচালক হচ্ছেন সালাহউদ্দীন আহমেদ। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে আছেন মোহাম্মদ শামস-উল-ইসলাম ও আবাসন প্রতিষ্ঠান শান্তা গ্রুপের প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে আছেন সাইফ খন্দকার।

এ প্রসঙ্গে ইন্স্যুরেন্স ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটির (আইডিআরএ) সদস্য গকুল চাঁদ দাস দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিনকে বলেন, ডেল্টা লাইফে পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে বীমা আইনের লঙ্ঘন হয়েছে। এছাড়া বিএসইসি’র করপোরেট গভর্নেন্স গাইড লাইন আনুযায়ীও একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে এ ধরনের পারিবারিক আধিপত্যের কোনো সুযোগ নেই। তাই পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ বিষয়টি দেখা উচিত।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ডেল্টা লাইফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অদিবা রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এ কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালক ৩৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারী ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৩৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ শেয়ার।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে ২৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় এ কোম্পানি। ২০১৭ সালে দেয় ২৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে ২০ শতাংশ ও ২০১৫ সালে দেয় ১৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ।
ডিএসই’তে গতকাল এ শেয়ারের সর্বশেষ দর ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ বা ৩ টাকা ৯ পয়সা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩ টাকায়। সারাদিন এই কোম্পানির শেয়ার দর ৭০ টাকা থেকে ৭৩ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। সমাপনী দর ছিল ৭২ টাকা ৩০ পয়সা, যা এর আগের কার্যদিবসে ছিল ৬৯ টাকা ১০ পয়সা। এদিন ১ হাজার ২৯৯ বারে এ কোম্পানির মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৩৫১ টি শেয়ার লেনদেন হয়।
গত একমাসে এ শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ছিল ৬৮ টাকা ও সর্বোচ্চ দর ৭৮ টাকা। গত ছয় মাসে এর সর্বনিম্ন দর ৪ টাকা ও সর্বোচ্চ দর ছিল ১ হাজার ৩২৮ টাকা।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৪৪০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged