সরকারি কোম্পানি তালিকাভুক্তি: আস্থা বাড়বে বিনিয়োগকারীদের

সময়: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০ ২:৫৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক : বেশ কয়েকদিন দেশের শেয়ারবাজারে টানা উত্থান ছিল। এ সময় বাজারের লেনদেনে বড় ধরনের রেকর্ড গড়েছে। কিন্তু কয়েকদিনের অর্জন গত তিন দিন সূচকের নিম্নমুখি প্রবণতায় ভেস্তে যেতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলো বাজারে তালিকাভুক্ত হলে সংকট কিছুটা হলেও কেটে যাবে। সেই সঙ্গে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। এতে বাজার স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছেন তারা।

দীর্ঘ মন্দার পর স্টেক হোল্ডারদের নানা উদ্যোগে সরকারের সহায়তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেশের ব্যাংকগুলোর জন্য বাজারে বিনিয়োগের একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে প্রত্যেক ব্যাংক বাজারে দু’শত কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর পর থেকে বাজারে সূচক ও লেনদেন বাড়তে থাকে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল এবং ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দাঁড়িয়েছিল ৪ হাজার ৭৪০ পয়েন্টে। কিন্তু গত তিন দিন সূচক কিছুটা কমায় লেনদেনও কমেছে। গতকাল ডিএসই’তে লেনদেন হয়েছে ৬২৯ কোটি টাকা এবং ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ হাজার ৬২১ পয়েন্টে অবস্থান করেছে।
পরপর কয়েকদিন সূচক ও লেনদেন কমায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফের আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে সূচক সামান্য কমায় আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ব্যাংকগুলো পুরোপুরি বিনিয়োগ শুরু করলে বাজার আরও চাঙ্গা হবে। তাছাড়া সরকারি কোম্পানি আনার জন্য সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা নিয়ে কাজ করছে ‘পুঁজিবাজার উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি।’
এর আগে বাজারকে গতিশীল এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব রূপালি, জনতা, অগ্রণী, বিডিবিএল ব্যাংকের শেয়ার সরাসরি তালিকাভুক্তি করার কথা বলা হয়েছে। তবে ট্রেজারি কার্যক্রমে যুক্ত থাকায় আপাতত আসছে না সোনালী ব্যাংক। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এর বাস্তবায়নে যথাযথ উদ্যোগ নিতে ‘পুঁজিবাজার উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি’কে নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ-মন্ত্রণালয়।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি অর্থ-মন্ত্রণালয়ে, ‘পুঁজিবাজার উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি’র সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, বাজারকে গতিশীল এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে প্রথমে রূপালি ব্যাংক ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়বে। এছাড়া জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক পর্যায়ক্রমে তাদের সরকারি শেয়ারের সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়বে। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে রূপালি ব্যাংক ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্ট ও বিশ্লেষকরা। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বাজারে সংকট অনেকটা কাটবে এবং আস্থা বাড়বে বিনিয়োগকারীদের। এতে বাজারে গতি ফিরবে বলে আশা করছেন তারা।

এ সম্পর্কে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি ব্যাংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। তবে সরকারি ব্যাংকের তালিকাভুক্তির কার্যকরী উদ্যোগ এটাই প্রথম। এসব কোম্পানি বাজারে আসলে ভালো। তবে কর্তৃপক্ষকে একটি বিষয় চিন্তা করতে হবে, এদের নিয়ে আসলে বিনিয়োগকারীদের কি সুবিধা দিতে পারবে। শুধু নিয়ে আসলেই হবে না।

সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছেন বাজার পরিস্থিতি ভালো করার জন্য। এটি ভালো উদ্যোগ। তবে এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের যেন আস্থা থাকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সরকারি কোম্পানির পাশাপাশি দেশি-বিদেশি অনেক ভালো কোম্পানি রয়েছে তাদেরকে বাজারে নিয়ে আসতে হবে।

এ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, শুনেছি ছয়মাসের মধ্যে সরকারি কোম্পানিগুলোকে বাজারে আসার জন্য বলা হয়েছে। সরকারি কোম্পানি বাজারে এলে ভালো। তবে এরা ভালো করতে পারবে কী না তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। আগের অর্থমন্ত্রীও অনেক বার একই কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। তবে এবার কিছুটা ব্যতিক্রম। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। কিছু একটা হলেও হতে পারে।

তিনি বলেন, আমার মতে এসব কোম্পানির ব্যালেন্স শিট ঠিক নাই। এরা লোকসানে রয়েছে। প্রফিট দেখাতে পারবে কী না এটাই বড় প্রশ্ন। তার পরেও সরকারি কোম্পানি বলে কথা। এতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। এসব কোম্পানি আসলে বাজারে সংকট অনেকটা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো যেতে পারে। বর্তমান বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনই প্রধান চ্যালেঞ্জ।

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৩৮১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged