সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন

৬ হাজার পয়েন্ট ধরে রাখতে না পারা: কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে সংশয়

সময়: মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৩:২৪:১৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। আজ (১৮ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতন ঘটলেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। গত পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় ১৩০ পয়েন্ট হারিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধারাবাহিক পতন শুধু উদ্বেগজনকই নয়, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন কমিশনের প্রতি ক্ষোভও চরমে পৌঁছেছে। তাদের অভিযোগ, কমিশনাররা বাজার নিয়ন্ত্রণে অযোগ্যতার স্বাক্ষর দিচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে—যখন সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছেছিল, তখন কেন সেই অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়নি? যদিও কেউ কেউ মনে করছেন, ফ্যাসিস্টদের অনুসারীরা সরকারের নানা উদ্যোগকে ব্যর্থ করতে সক্রিয়, কিন্তু তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

বিনিয়োগকারীদের মতে, এক-দুই দিনের পতন মেনে নেওয়া গেলেও এই সরকারের আমলে এত দিন ধরে পতন সহ্য করার মতো পরিস্থিতি নেই। বর্তমান কমিশনকে তারা বাজার পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখতে দেখছেন না। শুধু কিছু নির্দেশনা ও গেজেট প্রকাশ করেই তারা দায়িত্ব শেষ করছে, কিন্তু সেই পদক্ষেপের প্রভাব সম্পর্কে তারা নাকি পূর্বাভাস দেয়নি। এতেই বাজারের এই করুণ অবস্থা। যদি এই প্রবণতা চলতে থাকে, তাহলে বিনিয়োগকারীরা নতুন কমিশনের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হতে পারেন।

তাদের দাবি, নতুন কমিশনের প্রতি যে আশা ছিল, তা পূরণ হচ্ছে না। তারা মনে করেন, কমিশন অবিবেচকভাবে কিছু নির্দেশনা জারি করছে, যা দরপতনকে উসকে দিচ্ছে। ফলে কমিশনের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন তারা। বাজার মনিটরিংয়ের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নাকি নেই—শুধু নির্দেশনা ও গেজেটেই কি তাদের দায়িত্ব শেষ? বিনিয়োগকারীদের ভাষ্য, সঠিক মনিটরিং থাকলে টানা পতন হতো না। বাজারের উন্নতি না হলে তারা কমিশন পরিবর্তনের দাবিতে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

তারা আরও বলেন, কোনো পদক্ষেপ বা নির্দেশনা জারির আগে বিনিয়োগকারী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত, কিন্তু তা না করে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তাদের মত, প্রথমে বাজার মনিটরিং করে পরে আলোচনার মাধ্যমে উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

বাজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার (সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস) ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪০.৬৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৭৩.৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর সূচক ডিএসইএস ৭.৫৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫০.২১ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১১.১৯ পয়েন্ট হারিয়ে ২ হাজার ১৬৪.৪৬ পয়েন্টে রয়েছে।

আজ ডিএসইতে ৩৯০টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে; এর মধ্যে ৭৭টির দর বেড়েছে, ২৬৬টির দর কমেছে এবং ৪৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা আগের দিনের (৯৯৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা) চেয়ে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা বেশি।

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ৭৩ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যেখানে আগের দিন ছিল ১০৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা। সিএসইতে লেনদেন করা ২৩৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭১টির দর বেড়েছে, ১৩৪টির দর কমেছে এবং ৩০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১০.৭২ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৫১৩.৪০ পয়েন্টে নেমেছে, আগের দিন এটি ১১১.২২ পয়েন্ট কমেছিল।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged