মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে স্বচ্ছতা বাড়াতে বিএসইসির উচ্চপর্যায়ের কমিটি

সময়: বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১১:৩৭:১৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে তথ্য প্রকাশের কাঠামো, মানদণ্ড এবং নির্দেশিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই খাতের সার্বিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিএসইসির এক আদেশে জানানো হয়, কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবিরকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। অন্যান্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন সুলতানা পারভীন, মো. আতিকুল্লাহ খান, মো. তৌহিদুল ইসলাম সাদ্দাম এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মো. সাগর ইসলাম।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, এই কমিটির মূল উদ্দেশ্য হলো ফান্ডের সম্পদ মূল্যায়ন ও তথ্য প্রকাশে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা আরও সহজে প্রয়োজনীয় তথ্য পাবে এবং খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে। পাশাপাশি তহবিল ব্যবস্থাপনা ও রিপোর্টিং ব্যবস্থায় কার্যকর তদারকি জোরদার করার লক্ষ্যও রয়েছে।

কমিটিকে আগামী ৪০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের সুপারিশসম্বলিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। নতুন বিধিমালার আলোকে বর্তমান তথ্য প্রকাশ কাঠামো কতটা কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক, তা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাবনা তৈরি করবে তারা।

কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ট্রাস্ট ডিড প্রণয়ন, ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন ও পোর্টফোলিও স্টেটমেন্টের নতুন ফরম্যাট নির্ধারণ এবং ফান্ডের মার্জার বা কনভার্সন সংক্রান্ত স্পষ্ট গাইডলাইন তৈরি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী নথি ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে উঠবে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তথ্য প্রকাশ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা জোরদারে বিএসইসি যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, এই উদ্যোগ তারই ধারাবাহিকতা।

এ বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানান, নতুন বিধিমালায় মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো ফান্ডের ইউনিটের বাজারদর যদি তার নিট সম্পদমূল্য (এনএভি)-এর তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি কমে যায়, তাহলে ইউনিটহোল্ডারদের স্বার্থে ট্রাস্টি ইজিএম আহ্বান করবে। সেখানে বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফান্ডটি রূপান্তর বা অবসায়ন করা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়নের জন্যই নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে কমিটি।

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged