নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা তিন প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। আয়, নগদ প্রবাহ ও নিট সম্পদ মূল্যে ধারাবাহিক উন্নতির ফলে চলতি বছরে ব্যাংকটির ডিভিডেন্ড বাড়তে পারে বলে বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিভিডেন্ড ঘোষণা সংক্রান্ত বোর্ড সভার তারিখ নির্ধারণ করেছে ব্যাংকটি।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৫ এপ্রিল বিকাল ৩টায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হবে। এর আগে ২০২৪ অর্থবছরের জন্য ব্যাংকটি ১৭.৫০ শতাংশ নগদ ও ২.৫০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ডিভিডেন্ড দিয়েছিল।
এদিকে প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (EPS), পরিচালন নগদ প্রবাহ (NOCFPS) এবং নিট সম্পদ মূল্য (NAV) উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৫):
বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটির সমন্বিত EPS দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৮৫ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ১৬ পয়সা। একই সময়ে NOCFPS ঋণাত্মক ১ টাকা ১৯ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ৪৩ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।
৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির NAV দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ৪৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩০ টাকা ৭২ পয়সা।
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সুদ, বিনিয়োগ এবং কমিশন, এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ আয় বৃদ্ধির কারণে এ সময়ে মুনাফা বেড়েছে। পাশাপাশি আমানত ও ঋণ গ্রহণ বাড়ায় নগদ প্রবাহ শক্তিশালী হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন ২০২৫):
দ্বিতীয় প্রান্তিকে EPS হয়েছে ১ টাকা ৭৩ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের ১ টাকা ৫৪ পয়সার তুলনায় বেশি। প্রথম ছয় মাসে মোট EPS দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৫৩ পয়সা, যেখানে আগের বছর ছিল ২ টাকা ৬৮ পয়সা।
এ সময়ে NOCFPS বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের বছরের ৮ টাকা ৪৬ পয়সা থেকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি।
৩০ জুন ২০২৫ শেষে NAV দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ২৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৯ টাকা ৮৩ পয়সা।
ব্যাংকের তথ্যমতে, সুদ আয়, বিনিয়োগ আয় এবং স্থগিত কর আয় বৃদ্ধির কারণে মুনাফা বেড়েছে। অন্যদিকে আমানত ও ঋণ গ্রহণ বৃদ্ধি এবং ঋণ ও অগ্রিম কমে যাওয়ায় পরিচালন নগদ প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫):
তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির EPS হয়েছে ১ টাকা ৮৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের পুনর্গণিত ১ টাকা ৫৯ পয়সার তুলনায় বেশি। প্রথম নয় মাসে মোট EPS দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৪২ পয়সা, যেখানে আগের বছরের পুনর্গণিত EPS ছিল ৪ টাকা ২৭ পয়সা।
এ সময়ে NOCFPS বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৯৪ পয়সা, যা আগের বছরের পুনর্গণিত ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে অনেক বেশি।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে NAV বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ৮২ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে পুনর্গণিত ছিল ৩১ টাকা ৫৮ পয়সা।
ব্যাংকটির মতে, সুদ, বিনিয়োগ এবং স্থগিত কর আয় বৃদ্ধির ফলে মুনাফা বেড়েছে। পাশাপাশি আমানত ও ঋণ গ্রহণ বৃদ্ধি এবং ঋণ ও অগ্রিম হ্রাস পাওয়ায় নগদ প্রবাহ আরও শক্তিশালী হয়েছে।
সার্বিক মূল্যায়ন:
প্রথম তিন প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রাইম ব্যাংকের আয়, নগদ প্রবাহ ও সম্পদ মূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সুদ ও বিনিয়োগ আয় বৃদ্ধি এবং আমানতের প্রবৃদ্ধি ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।


