ইন্দো-বাংলা ফার্মায় অনিয়ম চিহ্নিত, কঠোর ব্যবস্থা নেবে কমিশন

সময়: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১২:২৭:৪২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বিরুদ্ধে তদন্তে বিভিন্ন অনিয়ম ও সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো সত্য প্রমাণিত হওয়ায় কোম্পানিটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানায়, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, আইপিও তহবিলের ব্যবহার ও ব্যবসা পরিচালনায় নানা অসঙ্গতি চিহ্নিত হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ২০২০ সালের ৩০ জুন থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পাঁচটি অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, পরিশোধিত মূলধন এবং আইপিও তহবিল ব্যবহারে আইন ও বিধি লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত রয়েছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের এপ্রিল মাসে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কোম্পানির কার্যক্রম খতিয়ে দেখেছিল। কমিটিতে ছিলেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রুমান হোসেন এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সিনিয়র ম্যানেজার স্নেহাশিষ চক্রবর্তী। তদন্ত প্রতিবেদনে আইপিও তহবিল ব্যবহার, নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নিয়মবহির্ভূত কাজের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তের পর বিএসইসি-র এনফোর্সমেন্ট বিভাগকে কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কমিশন নীতিগতভাবে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নিরীক্ষকরা আন্তর্জাতিক হিসাবমান লঙ্ঘন হলে নির্দিষ্ট ধারা বা অনুচ্ছেদ উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা এবং কোম্পানি যদি আইন, বিধি বা নির্দেশনা লঙ্ঘন করে, তা নিরীক্ষা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার বিধান।

তদন্ত কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে বিএসইসি অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি) এর সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’ উল্লেখ করে বিষয়টি কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনে পাঠানো হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং আইপিও তহবিল ব্যবহারে জবাবদিহিতা বাড়াতে বিএসইসির পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, তদন্তে একাধিক অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় কোম্পানির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ০.১৫% ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। শেয়ারপ্রতি লোকসান ৩২ পয়সা, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ১২ টাকা ৫৩ পয়সা।

২০১৮ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হচ্ছে। পরিশোধিত মূলধন ১১৬ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৬২ লাখ ৫ হাজার ১৭৮টি। ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের হাতে ২৪.৪৩%, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৮.৭৬% এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৫৬.৮১% শেয়ার রয়েছে। সর্বশেষ লেনদেনে শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৩০ পয়সা।

Share
নিউজটি ৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged