নিজস্ব প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ৫৫ বছরে সংঘটিত এসব অনিয়মের অভিযোগ যাচাইয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
দুদকের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে অভিযোগটি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই চলছে।
এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তথ্য ও নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদকে জমা হওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ‘পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানি’ (পিটিসি) করাচিতে কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দুটি বড় কারখানা স্থাপন করে। স্বাধীনতার পর এসব সম্পদের মালিকানা বাংলাদেশ সরকারের কাছে যাওয়ার কথা থাকলেও, অভিযোগ রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব ও জালিয়াতির মাধ্যমে সেগুলো বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তৎকালীন পিটিসির ফাইন্যান্স ম্যানেজার এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা জামালুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। এর ফলে গত পাঁচ দশকের বেশি সময়ে বাংলাদেশ ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


