মার্জিন রুলস বাস্তবায়নে সময় বাড়ানোর আবেদনে ব্রোকারদের তথ্য চাইল বিএসইসি

সময়: মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১১:১৮:৪১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে নতুন ‘মার্জিন রুলস-২০২৫’ কার্যকরকে ঘিরে প্রশাসনিক ও নীতিগত তৎপরতা বেড়েছে। এই বিধিমালা বাস্তবায়নের সময়সীমা বাড়ানোর দাবিতে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আবেদন করার পর ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বর্তমান অবস্থা ও প্রস্তুতি যাচাইয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিএসইসির উপপরিচালক মো. রফিকুন্নবী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ডিবিএ সভাপতির কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। চিঠিতে নতুন মার্জিন রুলস বাস্তবায়নে ব্রোকারদের অগ্রগতি, নির্ধারিত শর্ত পূরণে তাদের প্রস্তুতি এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে।

এর আগে ৭ এপ্রিল ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মার্জিন রুলস-২০২৫’ সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত সময়ের বাইরে আরও তিন মাস অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।

বিএসইসি জানিয়েছে, সময় বৃদ্ধির এই আবেদনটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্রোকারদের বাস্তব প্রস্তুতির একটি পরিষ্কার চিত্র প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে কমিশন জানতে চেয়েছে—কতটি ব্রোকারেজ হাউজ কনজারভেটিভ পলিসি গ্রহণ করেছে, কতজন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করেছে এবং কতজন ব্রোকার আরবিসিএ (RBCA) রুলস পুরোপুরি অনুসরণ করছে। পাশাপাশি আনরিয়েলাইজড লস বা নেগেটিভ ইক্যুইটি সমস্যামুক্ত ব্রোকারের সংখ্যাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

ডিবিএ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ নভেম্বর ‘মার্জিন রুলস-২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ছয় মাস পর অর্থাৎ আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এই বিধিমালায় বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার ও বাজারের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আধুনিক ও কঠোর বেশ কিছু শর্ত সংযোজন করা হয়েছে।

তবে ডিবিএ নেতৃবৃন্দের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত ছয় মাস সময় যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং সফটওয়্যার ও সিস্টেম উন্নয়নে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটেই তারা আরও তিন মাস সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছেন।

বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ব্রোকারদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিএসইসি যাচাই করতে চায়—কারা বাস্তবে প্রস্তুতি নিয়েছে এবং কারা সময়ক্ষেপণ করছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে সময় বাড়ানো হবে কি না।

Share
নিউজটি ৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged