নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে বিদ্যমান তারল্য সংকট দূর করা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিল সুবিধায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
সংগঠনটি প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের বর্তমান সর্বোচ্চ সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে এ সুবিধার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করেছে ডিবিএ।
এ বিষয়ে ৬ অক্টোবর ২০২৬ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এফসিএমএ-এর কাছে ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে ডিবিএ জানিয়েছে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা বিশেষ তহবিল সুবিধা ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সংগঠনটির মতে, এই সুবিধার মাধ্যমে বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে তারল্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়তা পাওয়া গেছে।
তবে বর্তমানে বিশেষ তহবিল সুবিধাটির মেয়াদ ৩০ নভেম্বর ২০২৬ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের শেয়ারবাজারে চলমান তারল্য সংকটের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সুবিধা বন্ধ না করে বরং আরও শক্তিশালী করার পক্ষে মত দিয়েছে ডিবিএ।
ডিবিএর প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের সর্বোচ্চ সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হবে। একই সঙ্গে সুবিধাটির মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত কার্যকর রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
ডিবিএ মনে করে, বিশেষ তহবিলের সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি এর মেয়াদও দীর্ঘ করা হলে শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাজারের তারল্য ও গভীরতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও আরও শক্তিশালী হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি বিবেচনায় দেশের শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়নেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি আশা করছে, শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ তহবিলের সর্বোচ্চ সীমা ৩০০ কোটি টাকা এবং সুবিধাটির মেয়াদ ৩০ নভেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
এ ছাড়া শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে ডিবিএ।


