ঋণখেলাপি পরিচালকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভালো কোম্পানি: বিএপিএলসি

সময়: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬ ১১:৪১:৫১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) নীতিমালার সংস্কারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি)। সংগঠনটির মতে, কোনো পরিচালক বা মনোনয়নকারী প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি অবস্থার কারণে আর্থিকভাবে সুস্থ ও লাভজনক কোম্পানিকে সমস্যার মুখে ফেলা উচিত নয়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিএপিএলসির সভাপতি রিয়াদ মাহমুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এ দাবি তুলে ধরে।

বৈঠকে দেশের বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা পরিচালনা ও প্রবৃদ্ধির পথে বিদ্যমান বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সিআইবি প্রতিবেদনের কারণে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর যে সমস্যাগুলো সৃষ্টি হচ্ছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করে সংগঠনটি।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী কোনো মনোনয়নকারী প্রতিষ্ঠান—যেমন কোনো মূল কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান—ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলে, সেই প্রতিষ্ঠানের মনোনীত পরিচালক যে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন, সেই কোম্পানিকেও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। অথচ সংশ্লিষ্ট কোম্পানি আর্থিকভাবে লাভজনক এবং সব ধরনের বিধিবিধান অনুসরণ করে পরিচালিত হলেও ঋণপ্রাপ্তি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে জটিলতার মুখে পড়ে।

বিএপিএলসির নেতারা বলেন, এ ধরনের ‘প্রক্সি ডিফল্ট’ বা পরোক্ষ ঋণখেলাপি ধারণা ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অযৌক্তিক বাধা তৈরি করছে। তাদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের ঋণযোগ্যতা মূল্যায়নের সময় শুধুমাত্র সেই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা, কর্মদক্ষতা ও পরিচালনাগত অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

সংগঠনটি আরও জানায়, বর্তমানে কোনো গ্রুপের একজন উদ্যোক্তা, পরিচালক অথবা জামিনদারের সিআইবি প্রতিবেদন নেতিবাচক হলে একই গ্রুপের অন্য কোম্পানিগুলোর ঋণসুবিধাও কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে আর্থিকভাবে শক্তিশালী এবং নিয়ম মেনে পরিচালিত অনেক প্রতিষ্ঠানও ক্ষতির মুখে পড়ছে।

এ প্রেক্ষাপটে বিএপিএলসি সিআইবি মূল্যায়নে ‘একই নিয়ম সবার জন্য’ নীতি থেকে সরে এসে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানায়। সংগঠনটির মতে, কোনো ব্যক্তি বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সমস্যার দায় অন্য সুস্থ প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

সিআইবি নীতিমালার সংস্কারের পাশাপাশি প্রতিনিধি দল সরকারের ঘোষিত ‘ফ্যাক্টরি রিভাইভাল ফান্ড’-এর আওতা সম্প্রসারণেরও দাবি জানায়। বর্তমানে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে গঠিত এ তহবিলের সুবিধা আর্থিক সংকটে থাকা পুনর্গঠিত ও চালু কারখানাগুলোকেও দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।

বিএপিএলসির মতে, এ ধরনের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে তীব্র কার্যকরী মূলধন সংকটে ভুগছে। তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হলে উৎপাদন কার্যক্রম সচল থাকবে, হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান টিকে থাকবে এবং সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।

বৈঠকে সংগঠনটির নেতারা আরও বলেন, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের ঝুঁকি কমাতে দেশের অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য শেয়ারবাজারনির্ভর হতে হবে। ইকুইটি ও ঋণপত্রভিত্তিক অর্থায়নের পরিধি বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন শেয়ারবাজার আরও গভীর ও কার্যকর হবে, অন্যদিকে ব্যাংক খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপও কমবে।

তাদের মতে, অর্থায়নের উৎস বহুমুখী করা গেলে করপোরেট খাত দীর্ঘমেয়াদে আরও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাও অধিক শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

Share
নিউজটি ৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged